১। আলোকসজ্জা করা, বাজি বা পটকা ফুটানো এগুলো নাজায়েয। এগুলোর মধ্যে যেমন অপচয় রয়েছে তেমনি ভাবে বিজাতীদের অনুসরণ।
২। হালুয়া রুটির আয়োজন করা, রসম বা ছাওয়াবের কাজ মনে করে ভাল খান পিনার ব্যবস্থা করা।
৩। জামাআতের সাথে সালাতুল তাসবীহ, তাহাজ্জুদ বা নফল নামায পড়া। জামাআতের সাথে যে কোন নফল নামায পড়া জায়েয নয়। বরং একাকী পড়বে।
৪। নির্ধারিত কোন পদ্ধতিতে নামায পড়া, যেমন নামাযে অমুক অমুক সূরা পড়া, এত রাকাআত পড়া, অমুক সুরা এত বার পড়া ইত্যাদি। এ সংক্রান্ত যত রেওয়ায়েত রয়েছে সবগুলোই মওজু। ইবনে দিহয়া (রহঃ) বলেন-
أحاديث صلاة البراءة موضوعة
অর্থঃ শবে বরাতের বিশেষ নামায সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো মওজু।-তাযকিরাতুল মওযূআত, মুহাম্মাদ তাহের পাটনী পৃ. ৪৫
এ রাতের নামাযের নির্ধারিত কোন নিয়ম নেই। দুই দুই রাকাআত করে নফলের নিয়তে যত রাকাআত ইচ্ছা যে সূরা ইচ্ছা পড়া যায়।
আল্লামা আব্দুল হাই লাখনৌবী (রহঃ) বলেন-
‘শবে বরাতে রাত্রি জেগে ইবাদত করা এবং যেকোনো নফল আমল যাতে আগ্রহ বোধ হয় তা আদায় করা মুস্তাহাব। এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। এ রাতে মানুষ যত রাকাআত ইচ্ছা নামায পড়তে পারে, তবে এ ধারণা ভুল যে, এ রাতের বিশেষ নামায রয়েছে এবং তার বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে। যেসব বর্ণনায় এ ধরনের কথা পাওয়া যায় সেগুলো মওযূ। তবে এ রাত একটি ফযীলতপূর্ণ রজনী এবং এ রজনীতে ইবাদত-বন্দেগী করা মুস্তাহাব এ বিষয়টি সহীহ হাদীস থেকেও প্রমাণিত। মোটকথা, এ রাতের ফযীলতকে অস্বীকার করা যেমন ভুল তদ্রূপ মনগড়া কথাবার্তায় বিশ্বাসী হওয়াও ভুল।’ -আল আছারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মওজুআ, পৃষ্ঠা ৮০-৮৫
৫। গোরস্থানে যাওয়া এবং কবর যিয়ারত করা। এ ব্যাপারে উপমহাদেশের অন্যতম হাদীস বিশারদ মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব (দাঃ বাঃ) বলেন-
“কবরস্থান যদি নিকটবর্তী হয় এবং মাযার না হয় আর সেখানে শরীয়তের দৃষ্টিতে আপত্তিকর কাজকর্ম না হয় তাহলে পুরুষের জন্য এ রাতে সেখানে গিয়ে যিয়ারত করার বিধান কী? হাকীমুল উম্মত থানভী (রাহঃ) প্রথমে একে মাসনূন লিখেছিলেন। পরে আরো চিন্তা-ভাবনা ও উলামায়ে কেরামের সঙ্গে মত বিনিময় করার পর ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেন এবং লেখেন যে, আমি কবরস্থানে যাওয়া থেকে বারণ করাকেই অধিক সতর্কতার বিষয় মনে করি। (ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২৮) শরীয়তের নীতিমালার আলোকে হযরত থানভী (রাহঃ) এর দ্বিতীয় মতই অগ্রগণ্য।(সূত্রঃ মাসিক আলকাওসার, আগস্ট ২০০৮)
৬। মাইকে ওয়াজ, কুরআন তিলাওয়াত ও শবীনা পড়া। এগুলোও নিষিদ্ধ। এর দ্বারা ইবাদাতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং মাযূরদের কষ্ট হয়।
অনেক জায়গায় দেখা যায় এ রাতে দীর্ঘ সময় ধরে ওয়াজ নসীহত চলতে থাকে। ফলে ওয়াজ শুনতে শুনতে অনেক মানুষের ইবাদাতের আগ্রহ শেষ হয়ে যায়। আর এটা যখন মাইকে হয় তখন তা আরো কঠিন হয়ে দাড়ায়। তখন না আগ্রহী মানুষের ঘরে বসে ইবাদাত করা সম্ভব হয় না মসজিদে। তাই এগুলো পরিত্যজ্য। তবে বর্তমানে মানুষের মধ্যে অজ্ঞতা ও দ্বীনী চেতনাহীনতা এত চরমে পৌছে গিয়েছে যে, অধিকাংশ মানুষই এর বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ। এর পাশাপাশি কিছু জাহেল মানুষের অপতৎপরতা তো রয়েছেই। আবার এ রাতের পূর্বে মানুষকে একত্রিত করাও মুশকিল। কিন্তু জনসাধারণের মাঝে এ দিনের আযমত পুরপূর্ণ মাত্রায় থাকায় এ দিনে মসজিদে সমবেত হওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তাই ইশার আগে বা পরে ইমাম সাহেব যদি এ রাতের বাস্তবতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে জনসাধারনকে অবহিত করে, বিশেষকরে আল্লাহ তাআলার সাধারণ ক্ষমা সংক্রান্ত দুএকটি হাদীস বলে দেয় তবে তা উত্তম হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

Loading