প্রশ্ন : আজ আপনার একটি যিনার ভয়াবহতার প্রশ্নোত্তর পড়লাম। হুজুর আমার প্রশ্ন: আমার স্ত্রী আমার সাথে খুব বেশি মিলন করতে চান না। তার এতে খুবই অনীহা। তাই আমি অনেক সময় ন্যাকেট দেখে আমার তৃপ্তি মিটাই এবং গোসল ফরজ করাই। এটার কারণে কি আমি পরিপূর্ণ যিনার মধ্যে সামিল হবো নাকি কিছু ছাড় আছে। উল্লেখ্য, আমি যিনার ভয়াবহতা আগে থেকে জানি বিধায় এখন এই পথ বেছে নিয়েছি। যদি অনুগ্রহ করে আমাকেও কিছু নসীহত করেন তবে কৃতজ্ঞ হব। আর সকলের কাছে দোয়া চাই আল্লাহ তাআলা আমাকেও যেন এই গুনাহ থেকে হেফাজত করেন এবং আমার স্ত্রীর সমস্যা সমাধান করে দেন। আমীন।

উত্তর :

অশ্লীল ছবি দেখা ও হস্তমৈথুন করা উভয়টি জঘন্য কবীরাহ গুনাহ। আর একটি কবীরাহ গুনাহই মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর বিবাহিতদের জন্য এগুলো আরও মারাত্মক গুনাহ। অশ্লীল ছবি দেখা চোখের যিনা আর এ ব্যাপারে অন্তরে জল্পনা কল্পনা করা অন্তরের যিনা।–সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৬২৪৩

হাদীস শরীফে আছে সাত শ্রেণীর লোকের দিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না, অন্যান্য মানুষের সাথে তাদেরকে একত্রিত করবেন না এবং তাদেরকে সর্বপ্রথম জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। তাদের এক শ্রেণী হল হস্তমৈথুনকারী।–শুআবুল ঈমান, হাদীস নং ৫৪৭০

আপনার স্ত্রীরও এই হাদীসটি জানা থাকা উচিত-
عَنِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ فَلَمْ تَأْتِهِ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتْهَا الْمَلاَئِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ »

অর্থঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে (তার প্রয়োজনে) বিছানায় ডাকে কিন্তু সে (স্ত্রী) তার ডাকে সাড়া না দিয়ে আসে না। ফলে স্বামী তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি যাপন করে, তাহলে ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তার উপর লানত দিতে থাকে।–সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৩২৩৭

আর যদি আপনার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে থাকে তবে সে মাযূর। সেক্ষেত্রে আপনি বিজ্ঞ কোন যৌন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে ঠিক হয়ে যাবে ইংশাআল্লাহ। এমতাবস্থায় আপনার স্ত্রী কোন সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে অপারগতা প্রকাশ করলে এবং আপনি গোনাহের আশঙ্কা করলে সেক্ষেত্রে অশ্লীল ছবি ও হস্তমৈথুন পরিত্যাগ করে স্ত্রীর পায়ুপথ ব্যতীত অন্য কোন অঙ্গ (যেমন রান) সম্ভোগের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটাতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে হেফাজত করেন।- সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২৫৮; সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ২৮৫

Loading