এক নজরে হাদীসের আলোকে মাহে রমযান

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়ষ্ক, মুকীম মুসলমানের উপর রমযানের রোযা ফরজ

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন-
لَمَّا حَضَرَ رَمَضَانُ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلمَ: قَدْ جَاءَكُمْ رَمَضَانُ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ، افْتَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا، فَقَدْ حُرِمَ.
অর্থঃ যখন রমযান মাসের আগমন ঘটল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমযান এসেছে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এ মাসের রোযা ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শিকলে বন্দী করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে তো প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত।-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭১৪৮; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ২৪১৬

ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা ছেড়ে দিলে সারাজীবন রোযা রেখেও কাফফারা আদায় হবে না

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ رَخَّصَهَا اللَّهُ لَهُ لَمْ يَقْضِ عَنْهُ صِيَامُ الدَّهْرِ
অর্থঃ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরীয়তসম্মত কোন কারণ ব্যতীত রমযানের একটি রোযা ভঙ্গ করবে, সে রমযানের বাইরে সারাজীবন রোযা রাখলেও তার বদলা হবে না।–সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২৩৯৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬৭২

মুসলমানদের জন্য সর্বোত্তম মাস হল রমযান

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
مَا أَتَى عَلَى الْمُسْلِمِينَ شَهْرٌ خَيْرٌ لَهُمْ مِنْ رَمَضَانَ، وَلَا أَتَى عَلَى الْمُنَافِقِينَ شَهْرٌ شَرٌّ لَهُمْ مِنْ رَمَضَانَ، وَذَلِكَ لِمَا يُعِدُّ الْمُؤْمِنُونَ فِيهِ مِنَ الْقُوَّةِ لِلْعِبَادَةِ، وَمَا يُعِد فِيهِ الْمُنَافِقُونَ مِنْ غَفَلَاتِ النَّاسِ وَعَوْرَاتِهِمْ، هُوَ غنْم الْمُؤْمِن يَغْتَنِمُهُ الْفَاجِرُ.
অর্থঃ আল্লাহ তাআলার কসম! মুসলমানদের জন্য রমযানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমযান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ।-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৩৬৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং ১৮৮৪

এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় আর জাহান্নমের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إِذَا كَانَ أَوّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشّيَاطِينُ، وَمَرَدَةُ الجِنِّ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ، فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ، وَفُتِّحَتْ أَبْوَابُ الجَنةِ، فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ، وَيُنَادِي مُنَادٍ: يَا بَاغِيَ الخَيْرِ أَقْبِلْ، وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ، وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النّارِ، وَذَلكَ كُلّ لَيْلَةٍ.
অর্থঃ যখন রমযান মাসের প্রথম রাতের আগমন ঘটে, তখন দুষ্ট জ্বিন ও শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তার একটি দরজাও খোলা হয় না এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, তার একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে, হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের প্রার্থী! থেমে যাও। আর আল্লাহ তাআলা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দান করেন।-সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৬৮২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬৪২

ধ্বংস ঐ ব্যক্তির জন্য যে এ মাস পাওয়ার পরেও গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না

হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন-
احضروا المنبر فحضرنا فلما ارتقى درجة قال آمين فلما ارتقى الدرجة الثانية قال آمين فلما ارتقى الدرجة الثالثة قال آمين فلما نزل قلنا يا رسول الله لقد سمعنا منك اليوم شيئا ما كنا نسمعه قال إن جبريل صلى الله عليه وسلم عرض لي فقال بعدا لمن أدرك رمضان فلم يغفر له قلت آمين فلما رقيت الثانية قال بعدا لمن ذكرت عنده فلم يصل عليك قلت آمين فلما رقيت الثالثة قال بعدا لمن أدرك أبواه الكبر عنده أو أحدهما فلم يدخلاه الجنة قلت آمين
অর্থঃ তোমরা মিম্বরের নিকট সমবেত হও। আমরা সকলেই সেখানে উপস্থিত হলাম। যখন তিনি মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলেন, তখন বললেন, আমীন, যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন, যখন তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলেন বললেন, আমীন।
হযরত কা’ব ইবনে উজরা (রাঃ) বলেন, যখন তিনি (মিম্বর থেকে) অবতরণ করলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আজ আমরা (মিম্বরে উঠার সময়) আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। উত্তরে তিনি বললেন, জিব্রীল আ. আমার নিকট আগমন করেছিলেন, যখন আমি প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমযান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ হল না। আমি বললাম, আমীন। যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখলাম তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যার নিকট আপনার নাম উচ্চারিত হল অথচ সে আপনার প্রতি দরূদ পড়ল না। আমি বললাম আমীন। যখন তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে বৃদ্ধ পিতামাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল অথচ তারা উভয়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। অর্থাৎ তাদের খেদমতের মাধ্যমে নিজেকে জান্নাতবাসী করতে পারল না। আমি বললাম, আমীন।-মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ৭২৫৬; সুনানে বাইহাকী, হাদীস নং ৮৭৬৭

জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মাস এবং দুআ কবুলের মাস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إِنّ لِلّهِ عُتَقَاءَ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ،(يعني في رمضان). لِكُلِّ عَبْدٍ مِنْهُمْ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ
অর্থঃ অবশ্যই আল্লাহ তাআলা রমযান মাসের প্রত্যেক দিবস ও রাত্রিতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দুআ কবুল করেন।-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৪৫০

বেশি বেশি দান-খয়রাতের মাস

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন-
كَانَ رَسُولُ اللّهِ صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلمَ أَجْوَدَ النّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ، .
অর্থঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। তাঁর দানশীলতা (অন্য সময় হতে) অধিকতর বৃদ্ধি পেত রমযান মাসে, যখন জিব্রীল আ. তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন।-সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬১৪৯

বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াতের মাস

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
وَكَانَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ فِي رَمَضَانَ حَتَّى يَنْسَلِخَ يَعْرِضُ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقُرْآنَ
অর্থঃ হযরত জিবরীল (আঃ) রমযানের প্রতি রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। -সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৯০২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬১৪৯

রোযার প্রতিদান আল্লাহ তাআলা নিজে দিবেন

হযরত ওয়াসেলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
يقول الله عز و جل الصوم لي وأنا أجزي به
অর্থঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, রোযা আমার জন্য। আর আমি নিজে এর প্রতিদান দিব।–সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪১

রোযাদারের ৫ টি বৈশিষ্ট্য যা পূর্ববর্তী উম্মতকে দেওয়া হয়নি

হযরত আবু হুরাইয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন-
أُعْطِيَتْ أُمَّتِي خَمْسَ خِصَالٍ فِي رَمَضَانَ لَمْ تُعْطَهَا أُمَّةٌ قَبْلَهُمْ خُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَتَسْتَغْفِرُ لَهُمْ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُفْطِرُوا وَيُزَيِّنُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلَّ يَوْمٍ جَنَّتَهُ ثُمَّ يَقُولُ يُوشِكُ عِبَادِي الصَّالِحُونَ أَنْ يُلْقُوا عَنْهُمْ الْمَئُونَةَ وَالْأَذَى وَيَصِيرُوا إِلَيْكِ وَيُصَفَّدُ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ فَلَا يَخْلُصُوا إِلَى مَا كَانُوا يَخْلُصُونَ إِلَيْهِ فِي غَيْرِهِ وَيُغْفَرُ لَهُمْ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَهِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ قَالَ لَا وَلَكِنَّ الْعَامِلَ إِنَّمَا يُوَفَّى أَجْرَهُ إِذَا قَضَى عَمَلَهُ
অর্থঃ আমার উম্মতকে রমযান শরীফের ব্যাপারে পাঁচটি জিনিস বিশেষভাবে দান করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী উম্মতকে দান করা হয়নি। এক. রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের ঘ্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। দুই. তাদের জন্য ফেরেশতারা ইফতার পর্যন্ত দুআ করতে থাকে। তিন. প্রতিদিন আল্লাহ তাআলা তার জান্নাত সুসজ্জিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, অতিসত্বর আমার নেক বান্দারা নিজেদের উপর থেকে (দুনিয়ার) কষ্ট-ক্লেশ দূর করে তোমার নিকট আসবে। চার. এই মাসে দুষ্ট ও অবাধ্য শয়তানদিগকে আবদ্ধ করে রাখা হয়। ফলে, অন্যান্য মাসে তারা যে সমস্ত খারাপ কাজ পর্যন্ত পৌছাতে পারত এই মাসে সেই পর্যন্ত পৌছাতে পারে না। ৫. রমযানের সর্বশেষ রাত্রে রোযাদারদিগকে মাফ করে দেয়া হয়। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই রাত কি শবে কদর? উত্তরে বললেন, না, বরং নিয়ম হল কাজ শেষ হলে মজদুরকে তার মজদুরী দেওয়া হয়।–মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭৯১৭; বাইহাকী, শুআবুল ঈমান, হাদীস নং ৩৬০২

রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের চেয়েও সুগন্ধিযুক্ত

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ المِسْكِ.
অর্থঃ সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়।-সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৮৯৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬০

রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
ثلاثة لا ترد دعوتهم الصائم حتى يفطر والإمام العادل ودعوة المظلوم يرفعها الله فوق الغمام ويفتح لها أبواب السماء ويقول الرب وعزتي لأنصرنك ولو بعد حين
অর্থঃ তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। এক. রোযাদারের দুআ ইফতার করা পর্যন্ত। দুই. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহের দুআ। তিন. মাজলুমের দুআ। আল্লাহ তাআলা তাদের দুআ মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেন এবং এর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার ইজ্জতের কসম! বিলম্বে হলেও আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব।-সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ৩৫৯৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৩৪২৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৭৫২

রোযাদারের জন্য বিশেষ দুটি আনন্দ

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন
لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ حِينَ يُفْطِرُ وَفَرْحَةٌ حِينَ يَلْقَى رَبَّهُ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ
অর্থঃ রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি ইফতারের মুহূর্তে অন্যটি তার রবের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তে। আর নিশ্চয়ই রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম।–সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১১৫১

রোযাদার রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে

হযরত সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেছেন-
إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ
অর্থঃ নিশ্চয় জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যার নাম হল রাইয়ান। কিয়ামতের দিন এই দরজা দিয়ে রোযাদাররা প্রবেশ করবে। তারা ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করবে না। ঘোষণা করা হবে, রোযাদাররা কোথায়? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে। তারা ব্যতীত অন্য কেউ তাতে প্রবেশ করতে পারবে না। যখন তাঁরা প্রবেশ করবে, ঐ দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না।-সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৮৯৬
অন্য রেওয়াতে আছে-
إن في الجنة لبابا يدعى الريان يدعى له الصائمون فمن كان من الصائمين دخله ومن دخله لم يظمأ أبدا
অর্থঃ জান্নাতে একটি দরজা আছে, যার নাম রাইয়ান। শুধু রোযাদারদেরকে এই দরজা দিয়ে ডাকা হবে। কাজেই যারা রোযাদার তারা (এই দরজা দিয়ে) প্রবেশ করবে। আর যে তাতে প্রবেশ করবে সে কখনো পিপাসার্ত হবে না।-সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ৭৬৫

রোযা রোযাদারের জন্য সুপারিশ করবে

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ الصِّيَامُ أَيْ رَبِّ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ وَيَقُولُ الْقُرْآنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ قَالَ فَيُشَفَّعَانِ
অর্থঃ রোযা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা মেটানো থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন দু’জনের সুপারিশই গ্রহণ করা হবে।–মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ২০৩৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৬৬২৬

রোযা পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
অর্থঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ছাওয়াবের আশায় রমযানের রোযা রাখবে আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।-সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৩৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮১৭

রোযা জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর ক্ষেত্রে ঢাল স্বরূপ যতক্ষণ না তা ফেড়ে ফেলা হয়

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
الصِّيَامُ جُنَّةٌ
অর্থঃ রোযা ঢাল স্বরূপ।-সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬১
অন্য হাদীসে আছে-
الصيام جنة من النار كجنة أحدكم من القتال
অর্থঃ যুদ্ধে ব্যবহৃত ঢালের মতো রোযা জাহান্নাম থেকে ঢাল।–সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬৩৯
অন্য হাদীসে আছে-
الصَّوْمُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهَا
অর্থঃ রোযা ঢাল যতক্ষণ না তা (গুনাহের দ্বারা) বিদীর্ণ করে ফেলা হয়।–সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ২২৩২
অন্য হাদীসে আছে-
الصِّيَامُ جُنَّةٌ وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ
অর্থঃ রোযা হচ্ছে ঢাল। যখন তোমাদের কেউ রোযা থাকে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং মূর্খের ন্যায় কাজ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয় তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার।-সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৯০৪
অন্য হাদীসে আছে-
مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
অর্থঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ বর্জন করল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।-সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৯০৩
অন্য হাদীসে আছে-
رب صائم ليس له من صيامه إلا الجوع . ورب قائم ليس له من قيامه إلا السهر
অর্থঃ অনেক রোযাদার ব্যক্তি এমন আছে, যাদের রোযার বিনিময়ে অনাহারে থাকা ব্যতীত আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক রাত্রি জাগরণকারী এমন আছে, যাহাদের রাত্রি জাগরণের কষ্ট ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না।–সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬৯০; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং ১৯৯৭

সেহরীর খানা বরকতময়

হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً
অর্থঃ সেহরী খাও, সেহরীতে বরকত রয়েছে।-সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৯২৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬০৩

সেহরী খাওয়া তাকীদপূর্ণ সুন্নাত

হযরত আমর ইবনে আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ
অর্থঃ আমাদের রোযা ও আহলে কিতাবদের রোযার মাঝে পার্থক্য হল সেহরী খাওয়া (অর্থাৎ আমরা সেহরী খাই তারা খায় না)।-সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬০৪; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ২১৬৫

শেষ ওয়াক্তে সেহরী খাওয়া সুন্নত

হযরত আবূ জর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
لَا تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْإِفْطَارَ وَأَخَّرُوا السُّحُورَ
অর্থঃ আমার উম্মত কল্যাণের মাঝে থাকবে যতদিন তারা সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করবে ও শেষ ওয়াক্তে সেহরী খাবে।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২১৩১২

সেহরী আহারকারীদের উপর স্বয়ং আল্লাহ রহমত নাযিল করেন

হযরত ইবনে ওমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন-
إن الله وملائكته يصلون على المتسحرين
অর্থঃ আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং এবং তাহার ফেরেশতাগণ সেহরী আহারকারীদের উপর রহমত নাযিল করেন।–সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৩৪৬৭; তাবারানী, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং ৬৪৩৪

ইফতারের সময় দুআ কবুল হয়

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إن للصائم عند فطره لدعوة ما ترد
অর্থঃ ইফতারের সময় রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।–সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস হাদীস নং ১৭৫৩

প্রতিদিন ইফতারের সময় অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয়

হযরত জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
إن لله عند كل فطر عتقاء وذلك في كل ليلة
অর্থঃ ইফতারের সময় অসংখ্য জাহান্নামীকে আল্লাহ তাআলা মুক্তি দেন। আর এটা প্রতি রাতে হয়ে থাকে।–সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬৪৩; বাইহাকী, শুআবুল ঈমান, হাদীস নং ৩৬০৫

সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নাত

হযরত সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ
অর্থঃ মানুষ যতদিন সময় হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের মাঝে থাকবে।–সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬০৮

খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নাত

হযরত সালমান ইবনে আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
إذا أفطر أحدكم فليفطر على تمر فإنه بركة فمن لم يجد فليفطر على ماء فإنه طهور
অর্থঃ যখন কেউ ইফতার করে সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তা বরকতের খাদ্য। যদি তা না থাকে তাহলে পানি দ্বারা। কেননা তা পবিত্র বস্তু।-সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ৬৫৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬৯৯

ইফতারের দুআ

হযরত মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
أَنَّ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم-كَانَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
অর্থঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতার করার পর (এই দুআ) পড়তেন
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই রোযা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিযিক দিয়েই ইফতার করেছি।-সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২৩৬০; সুনানে বাইহাকী, হাদীস নং ৮৩৯২
এরপর পড়বে
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
অর্থাৎ পিপাসা নিবারিত হল, শিরা উপশিরা সতেজ হল আর রোযার ছাওয়াব প্রাপ্তির খাতায় লিখিত হয়ে গেল।- সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২৩৫৯; সুনানে বাইহাকী, হাদীস নং ৮৩৯১

তারাবীহ আদায় করলে তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়

হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
অর্থঃ যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে ছাওয়াবের আশায় রমযানের রাতে দণ্ডায়মান হয় তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।-সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮১৫

হাজারো মাসের চেয়ে উত্তম লাইলাতুল কদরের মাস। আর এই রাতের কল্যাণ থেকে কেবল হতভাগাই বঞ্চিত হয়

হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إن هذا الشهر قد حضركم وفيه ليلة خير من ألف شهر من حرمها فقد حرم الخير كله ولا يحرم خيرها إلا محروم
অর্থঃ তোমাদের নিকট একটি মাস এসেছে। তাতে একটি রাত্র আছে যা হাজার মাস হতেও উত্তম। যে ব্যক্তি এই রাত থেকে মাহরূম থাকল সে যেন সমস্ত ভালাই ও কল্যাণ থেকে মাহরূম থাকল। আর এই রাতের কল্যাণ হতে কেবল ঐ ব্যক্তিই মাহরূম থাকে যে প্রকৃতপক্ষেই মাহরূম।–সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬৪৪

কদরের রাতে নামাযে দাঁড়ালে আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেন

হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
অর্থঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ছওয়াবের আশায় কদরের রাতে নামাযে দণ্ডায়মান হবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।-সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৯০১

কদরের দুআ

হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
قلت يا رسول الله أرأيت إن علمت أي ليلة ليلة القدر ما أقول فيها ؟ قال قولي اللهم إنك عفو كريم تحب العفو فاعف عني
আমি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি যদি শবে কদর পেয়ে যাই, তবে কি দুআ করব? হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন এই দুআ করবে-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি বড় ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালবাসেন। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।–সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ৩৫১৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৮৫০

শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর অন্বেষণ করা

হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنْ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
অর্থঃ তোমরা রমযানে শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিগুলোতে শবে কদর তালাশ কর।-সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ২০১৭

এতেকাফ ফযীলাত

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
من اعتكف يوما ابتغاء وجه الله تعالى جعل الله بينه و بين النار ثلاث خنادق أبعد ما بين الخافقين
অর্থঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন ইতিকাফ করবে আল্লাহ তাআলা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। অর্থাৎ আসমান ও যমীনের দূরত্ব থেকে অধিক দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন।–বাইহাকী, শুআবুল ঈমান, হাদীস নং ৩৯৬৫

Loading