প্রশ্ন : আসসালামু আলাইকুম মুফতী সাহেব…আপনাকে অনেক বিরক্ত করি,দয়া করে ক্ষমা করবেন। আমার প্রশ্ন হলো ১) আমার বোনের কসমের কাফফারা (১০ জন মিসকিনকে খাওয়ানো/কাপড় দেয়া) কি আমার বাবার টাকায় হবে? নাকি আমার বোন অসমর্থ বলে তার টানা তিনদিন রোজা রাখতে হবে? ২) শরীয়তবিরোধী কাজের জন্য কসমের কাফফারা দিতে হয় না, কথাটা কি সত্যি? ৩) কেউ যদি দুটি কসম করে সেক্ষেত্রে সে যদি একসাথে ২০ জন মিসকিনকে একবেলা আহার করায়,এটা কি একটি নাকি দুটি কসমের কাফফারা হিসাবে গণ্য হবে??
উত্তর :ওয়া আলাইকুমুস সালাম
১। যদি আপনার বোনের দশজন মিসকিনকে খাওয়ানোর সামর্থ্য না থাকে তাহলে টানা তিন দিন
রোযা রাখবে। এক্ষেত্রে আপনার বাবার টাকায় মিসকীনদের খাওয়ানো তার জন্য জরুরী হবে না। তবে যদি
আপনার বাবা আপনার বোনের অনুমতি সাপেক্ষে ১০ জন মিসকীনকে খাওয়ায় তাহলে এর দ্বারা কাফফারা
আদায় হয়ে যাবে।
২। না, কথাটা সঠিক নয়। বরং কসম ভঙ্গ করলেই কাফফারা দিতে হবে। চাই কসম ভঙ্গ করার দ্বারা গুনাহ হোক বা ছাওয়াব। তবে কেউ যদি এমন কোন কসম খায় যেটা গোনাহের কাজ (যেমন কেউ কসম খেল সে তার মায়ের সাথে কথা বলবে না) সেক্ষেত্রে সে কসম ভঙ্গ করে অর্থাৎ মায়ের সাথে কথা বলে কসমের কাফফারা দিয়ে দিবে।
আর যদি কেউ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কসম খায় তাহলে সে কসম সম্পন্নই হবে না। কাজেই তার কাফফারাও দিতে হবে না। তবে এমন কসম খাওয়া গুনাহের কাজ।
৩। বিশ জন মিসকীনকে এক বেলা আহার করালে একটি কাফফারাও আদায় হবে না। বরং উক্ত বিশ জনকে আরেক বেলা
আহার করাতে হবে তবে দুটি কাফফারা আদায় হবে।
সূত্র সমূহঃ সূরা মায়েদা, আয়াত নং ৮৯; সূরা বাকারা, আয়াত নং ২২৫;সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২১৯১; ফাতহুল কদীর ৫/৭৫; নাইলুল আওতার ৮/৫৯২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৮২
![]()
